কাঁচা বাদাম না ভাজা বাদাম কোনটি বেশি স্বাস্থ্যকর?
ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় :
২৭-০৩-২০২৬ ০৫:৪৮:৪৩ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২৭-০৩-২০২৬ ০৫:৪৮:৪৩ অপরাহ্ন
ছবি : সংগৃহীত
অবসর সময়ের বাঙালির কাছে অন্যতম জনপ্রিয় খাবার হলো বাদাম। বাদাম যেমন জনপ্রিয় তেমন রয়েছে পুষ্টিগুণ। বাজারে নানা ধরনের বাদাম রয়েছে। এর মধ্যে-চিনাবাদাম, কাজু বাদাম, কাঠবাদাম বাঙালির কাছে জনপ্রিয়।
বর্তমানে যত বেশি মানুষ স্বাস্থ্য সচেতন হয়ে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনছেন। তাই খাদ্য তালিকায় অনেকেই বেছে নিয়েছে বাদাম। অনেকের মতে, কাঁচা বাদামই প্রাকৃতিক পুষ্টিগুণে ভরপুর এবং এর সবচেয়ে বিশুদ্ধ রূপ। আবার কেউ কেউ মনে করেন, ভাজা বাদামের স্বাদ বেশি ভালো এবং তা হজম করাও সহজ। এ নিয়ে স্বাস্থ্যসচেতন নাস্তা-প্রেমীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলছে। তবে প্রশ্ন হলো, দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় আসলে কোন ধরনের বাদাম স্বাস্থ্যকর?
চলুন জেনে নেয়া যাক—
পুষ্টি ধারণ
কাঁচা বাদাম উচ্চ তাপমাত্রার সংস্পর্শে না আসায় এতে থাকা তাপ-সংবেদনশীল পুষ্টি উপাদান যেমন ভিটামিন ই ও বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ভালোভাবে সংরক্ষিত থাকে। স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট হেলথলাইনের তথ্য অনুযায়ী, বাদাম ভাজা হলে সামান্য পুষ্টিগুণ কমে যেতে পারে এবং পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটের জারণ কিছুটা বেড়ে যেতে পারে। তবে এসব পরিবর্তন সাধারণত বাদামের সামগ্রিক স্বাস্থ্যগুণ খুব বেশি কমিয়ে দেয় না। তাই যারা দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গ্রহণকে বেশি গুরুত্ব দেন, তাদের জন্য কাঁচা বাদাম সামান্য বেশি উপকারী হতে পারে।
হজম ক্ষমতা এবং স্বাদ
ভাজা বাদামের স্বাদ, সুগন্ধ ও মুচমুচে ভাব বেশি হওয়ায় এগুলো প্রতিদিনের নাস্তা হিসেবে অনেকের কাছে বেশি তৃপ্তিদায়ক মনে হয়।নিউট্রিফুড সায়েন্সের একটি তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বাদাম ভাজলে ফাইটিক অ্যাসিডের মতো কিছু অ্যান্টিনিউট্রিয়েন্ট কমে যায়। ফলে শরীরে খনিজ উপাদান শোষণ কিছুটা বাড়তে পারে এবং অনেকের জন্য বাদাম হজম করাও সহজ হয়। এ কারণেই ভাজা বাদাম অনেক মানুষের কাছে আরও বেশি আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।
তেল এবং চর্বির পরিমাণ
শুকনো ভাজা বাদামে সাধারণত কাঁচা বাদামের মতোই প্রায় একই পরিমাণ প্রাকৃতিক চর্বি থাকে। তবে বাণিজ্যিকভাবে ভাজা বাদামের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত তেল ও লবণ যোগ করা হতে পারে। স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট ভেরিওয়েল হেলথের তথ্য অনুযায়ী, কাঁচা ও শুকনো ভাজা বাদামের ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট প্রোফাইল প্রায় একই রকম। কিন্তু বাজারে পাওয়া প্যাকেটজাত ভাজা বাদামে অতিরিক্ত তেল যোগ করা হলে ক্যালোরির পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে, যা দৈনন্দিন খাদ্যতালিকার জন্য তুলনামূলকভাবে কম উপযোগী হতে পারে।
নিরাপত্তা উদ্বেগ
কাঁচা বাদাম তাপের সংস্পর্শে না আসায় এতে ব্যাকটেরিয়াজনিত দূষণের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কিছুটা বেশি থাকতে পারে। স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট মেডিকেল নিউজ টুডের তথ্য অনুযায়ী, বাদাম ভাজলে এর আর্দ্রতা কমে যায় এবং সালমোনেলার মতো ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস হতে পারে। ফলে ভাজা বাদাম সংরক্ষণ করা সহজ হয় এবং ভ্রমণের সময় বহন করাও তুলনামূলকভাবে বেশি নিরাপদ।
এখন প্রশ্ন হলো আপনার জন্য কোনটি স্বাস্থ্যকর?
যদি আপনার লক্ষ্য হয় সর্বোচ্চ পুষ্টিগুণ পাওয়া এবং অপ্রয়োজনীয় লবণ বা তেল এড়িয়ে চলা, তাহলে কাঁচা বাদাম হতে পারে ভালো পছন্দ। যারা প্রাকৃতিক খাবারকে অগ্রাধিকার দেন, তাদের জন্য এটি স্বাস্থ্যকর ও উপযোগী।
অন্যদিকে, আপনি যদি মুচমুচে টেক্সচার বেশি স্বাদ উপভোগ করেন, অথবা কাঁচা বাদাম হজম করতে কিছুটা অসুবিধা হয়, তাহলে ভাজা বাদাম একটি ভালো বিকল্প হতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে লবণ, চিনি বা অতিরিক্ত তেল ছাড়া শুকনো ভাজা বাদাম বেছে নেওয়াই উত্তম।
পরিমিত পরিমাণে খেলে কাঁচা ও ভাজা—উভয় ধরনের বাদামই স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে। কাঁচা বাদামে পুষ্টিগুণ সামান্য বেশি থাকতে পারে, আর ভাজা বাদাম স্বাদে বেশি আকর্ষণীয় এবং অনেকের জন্য হজম করাও সহজ। তাই একটি খেতে গিয়ে অন্যটিকে পুরোপুরি বাদ দেয়ার প্রয়োজন নেই।
বাংলা স্কুপ/ডেস্ক/এইচবি/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স